এইচ এম জালাল উদ্দীন কাউছার, উখিয়া:

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিনড্রাইভ এলাকায় অবৈধ ও অনুমোদনহীন স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রথম দিনে ২৬ অক্টোবর, সোমবার, প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানে ইনানী এলাকার ‘বে-হিলটন রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানের চারতলা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) জানিয়েছে, ‘চারবার নোটিশ দেওয়ার পরও তা আমলে নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

মেরিনড্রাইভে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না জানিয়ে কউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মেরিনড্রাইভের দুই পাশে অবস্থিত দুই থেকে আড়াইশ অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কউকের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বারবার নোটিশ করার পরও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় যৌথ অভিযান শুরু করা হয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে।’

কউকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার কথা থাকলেও অভিযানের পর কিছু সময় অতিবাহিত না হতেই সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে মেরিনড্রাইভের উখিয়া উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ ঘুরে অন্তত ৪-৫টি স্থাপনায় নির্মাণযজ্ঞ চলতে দেখা গেছে। এসব নির্মাণে জড়িতদের দাবি, তারা সরকারি দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করেছেন।

টুপটুপ রিসোর্টের পার্শ্ববর্তী ইনানী এলাকায় অবস্থিত ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্টে’ গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির রিসেপশন অর্থাৎ অভ্যর্থনা কক্ষের পাশেই ছাউনি করে আড়ালে নির্মাণকাজে ব্যস্ত কয়েকজন শ্রমিক। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির পেছনে একতলা একটি নির্মাণাধীন ভবন দেখা গেছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মনসুর জানান, ‘একটি পানির ট্যাংক সেখানে বসানো হচ্ছে। তবে নতুন করে কোনো নির্মাণকাজ চলছে না।’ কউকের নির্দেশনার পর একতলা ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সোনারপাড়া এলাকায় সৈকত অংশে ‘সাদাবালি রিসোর্ট’ নামে আরেকটি বাঁশ-কাঠের প্রতিষ্ঠান দেখা গেছে, যেটিও অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের একজন ইমরান নাজির ইমন জানান, ‘কউকের নির্দেশনার পর তারা কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করছেন না।’ একদিন আগেও প্রতিষ্ঠানটির গেটে নামফলক থাকলেও সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে উচ্ছেদের পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বে-হিলটন মালিকপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি শহীদুল হক এ সময় দাবি করেন, ‘২০১৪ সালে বে-হিলটনের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং তাদের কাছে সব কাগজপত্রসহ অনুমোদন প্রক্রিয়ার যথেষ্ট প্রমাণ ছিল। কিন্তু সেটি তোয়াক্কা না করে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।’

তিনি জানান, ‘মালামাল সরানোর জন্য এক দিনের সময় প্রার্থনা করা হলেও কউক তা প্রাধান্য না দিয়েই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কউকের অনুমোদন না পেলে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি একাধিক দপ্তরের অনুমতি পাওয়া যায় না।’

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অবৈধ রিসোর্ট-কটেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করছি। পাশাপাশি অবৈধভাবে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হচ্ছে।’

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) কক্সবাজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ব্যবসায়ীরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।